নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
দুই দেশের দুই শীর্ষ নেতার বৈঠক বলে কথা, একে যেন এক রূপকথার গল্প বললেও ভুল হবে না। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম ডোনাল্ড ট্রাম্প আর শি জিনপিং চীনের মাটিতে মুখোমুখি হলেন। উদ্দেশ্য একটাই—দুটি দেশের সম্পর্ককে একটু শান্ত করা, একটু স্থিতিশীল করা। বেইজিংয়ে দুদিন ধরে চলা এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট এবং তার চীনা প্রতিপক্ষ একে অন্যের প্রতি বেশ সম্মান দেখালেন। বাইরে থেকে দেখে মনে হচ্ছিল, তারা বাণিজ্য এবং অন্যান্য বিষয়ে নতুন কিছু চুক্তিতে পৌঁছেছেন। কিন্তু ভেতরকার খবর অন্য কথা বলছে। দুই দেশের দেওয়া আলাদা আলাদা বিবৃতিতে বোঝা গেল, আসল জায়গায় তেমন কোনো অগ্রগতিই হয়নি। বাণিজ্য যুদ্ধ থামানোর মেয়াদ বাড়ানো কিংবা তাইওয়ান, ইরান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে যে গভীর মতবিরোধ—সেসবের সমাধান এখনো দূর অস্ত। দুই নেতার বক্তৃতার সুরও ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। এর থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে দুজনের মনের ভাবনা দুই রকম।
মার্চের ১৫ তারিখ। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শেষ পর্বের চা-চক্র আর একটি ওয়ার্কিং লাঞ্চ শেষে ট্রাম্প চীন ছাড়লেন। বৈঠকটি হয়েছিল ঝংনানহাই প্রাসাদে। নিষিদ্ধ পল্লি বা ফরবিডেন সিটির ঠিক পাশেই এই সুরক্ষিত এলাকা, যেখানে চীনের শীর্ষ নেতারা থাকেন। আগের দিন দুই নেতা দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনা করেছিলেন, রাতে ছিল রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ। তারা দুজনে মিলে ‘টেম্পল অব হেভেন’ বা স্বর্গীয় মন্দিরেও একটু ঘুরে এসেছেন। ৬০০ বছরের পুরোনো এই ঐতিহাসিক চত্বরে এককালে চীনের সম্রাটরা ভালো ফসলের জন্য প্রার্থনা করতেন। ট্রাম্পের এই সফরে তার সঙ্গে ছিলেন ছেলে এরিক ট্রাম্প এবং আমেরিকার এক ডজন বাঘা বাঘা ব্যবসায়ী নেতা। তাদের মধ্যে টেসলার ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াংও ছিলেন।